ব্যথা কি ?


ব্যথা কি ? এই সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাটি হলো, আঘাত বা অন্য কোনো দৈহিক রোগ ব্যথার রিসেপ্টর এবং ফাইবারগুলোকে উত্তেজিত করে, যার বার্তা সরাসরি মেরুদণ্ড বেয়ে মস্তিষ্কে পৌছাই এবং তা অনুভূত হয়। এটিই হল ব্যথা।


কিন্তু এটি আসলে একটি প্রথাগত ধারণা, যাতে ধরে নেওয়া হয় যে ব্যথা উপলব্ধির পেছনে একটি দৈহিক কারণ অবশ্যই থাকতে হবে – যেমন আঘাত লাগা, সংক্রমণ বা কোনো রোগ ইত্যাদি। এই ধরণের কোনো কারণ উপস্থিত না থাকলে ব্যথাকে সাধারণত মানসিক অসুস্থতা বা অসুস্থতার ভান বলে মনে করা হতো। ব্যথার এই প্রচলিত ধারণাটিকে সম্পূর্ণ বদলে দেয় গেট কন্ট্রোল তত্ত্ব (‘The gate control theory’ - Melzack and Wall 1996) । এই তত্ত্বটি প্রমাণ করে দেখায় যে, বৃহৎ ও ক্ষুদ্র তন্তুগুলোর আপেক্ষিক কার্যকলাপ এবং মস্তিষ্ক থেকে আগত বার্তার মাধ্যমে স্পাইনাল ট্রান্সমিশন ক্রমাগত নিয়ন্ত্রিত হয় (Spinal transmission is continuously modulated by the relative activity in large and small fibres and by descending messages from the brain)।  ব্যথা প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্কের গতিশীল ভূমিকার ওপর গেট তত্ত্বের এই গুরুত্বারোপ একটি শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসাগত প্রভাব ফেলেছে।


মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলো, যেগুলোকে পূর্বে ‘ব্যথার প্রতিক্রিয়া’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হতো তা এখন ব্যথা প্রক্রিয়াকরণের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসার মাধ্যমে ব্যথা ব্যবস্থাপনার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।


ব্যথা তত্ত্বের পরিধি মস্তিষ্কের আরও গভীরে প্রসারিত হয়েছে। আমরা এখন জানতে পেরেছি যে, মস্তিষ্কের বিশেষায়িত সমান্তরাল প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থাগুলো ব্যক্তিগত ব্যথা অভিজ্ঞতার সংবেদী-বৈষম্যমূলক, আবেগিক-প্রেরণামূলক এবং জ্ঞানীয়-মূল্যায়নমূলক মাত্রাগুলোর সাথে বিশেষভাবে জড়িত ।


ব্যথার সাথে জড়িত মস্তিষ্কের গঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে সোমাটোসেন্সরি প্রজেকশন এলাকা, অ্যান্টিরিয়র সিঙ্গুলেট কর্টেক্স এবং লিম্বিক সিস্টেমের অন্যান্য গঠন, প্রিফ্রন্টাল ও পোস্টেরিয়র প্যারাইটাল কর্টেক্স, ইনসুলা, হাইপোথ্যালামাস এবং মিডব্রেইন পেরিয়াকোয়াডাক্টাল গ্রে এরিয়া, থ্যালামাসের অংশবিশেষ এবং বিস্তৃত আন্তঃসংযুক্ত পথসমূহ । মস্তিষ্কের এই অঞ্চলগুলো মিলে একটি ‘কেন্দ্রীয় ব্যথা ম্যাট্রিক্স’ গঠন করে (Ingvar and Hsieh 1999, Bushnell 2000)। এখান থেকেই আমরা সমস্ত শারীরিক ও মানসিক ব্যথা অনুভব করে থাকি।